ঐতিহ্যবাহী হরিপুর নৌকা বাইচ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি
নৌকা বাইচকে সামনে রেখে প্রতিযোগিতাস্থল ও আশপাশের এলাকায় চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নদীর তীর ও মাঠ প্রস্তুতসহ নানা কার্যক্রম। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নৌকা প্রস্তুত করছেন প্রতিযোগীরা। পাশাপাশি মাঝি-মাল্লারাও নিচ্ছেন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তুলতে নৌকাগুলোর মেরামত, রং ও সাজসজ্জার কাজও চলছে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের নৌকা বাইচে বিভিন্ন এলাকার একাধিক নৌকা অংশ নেবে। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের চলাচল ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নদীর দুই তীরে দর্শনার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর হরিপুর রাজবাড়ি, তিতাস নদী, হরিণবেড়সহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা ঘিরে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন উপভোগ করতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় বর্ষা মৌসুমে গ্রামবাংলার বিভিন্ন নদ-নদীতে নিয়মিত নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হতো। সময়ের পরিবর্তনে এ ধরনের আয়োজন অনেকটাই কমে গেলেও হরিপুরের নৌকা বাইচ এখনও মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। এটি একদিকে যেমন বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে, অন্যদিকে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি করছে আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনমেলার পরিবেশ।
নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে হরিপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বাড়তি বেচাকেনার প্রত্যাশা করছেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যেও নৌকা বাইচ দেখার ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
হরিপুর মানব কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, সুষ্ঠু, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকা বাইচ সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সংগঠনের সহ সভাপতি উসমান আহমেদ বলেন, ঐতিহ্যবাহী হরিপুর নৌকা বাইচ এবারও প্রাণবন্ত ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ নতুন প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Post a Comment