জেব্রা ক্রসিং-স্পিডব্রেকারেও ফিরছে না সড়কে শৃঙ্খলা
এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়; ঢাকার তিন সীমান্তঘেঁষা উপজেলা দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের নিত্যদিনের সড়কচিত্র। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নির্মিত জেব্রা ক্রসিং ও স্পিডব্রেকারগুলোও এখন আইন না মানা এবং অসচেতনতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
দোহারের জয়পাড়া, নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা ও বান্দুরা এবং কেরানীগঞ্জের কদমতলী ও মাওয়া সংযোগস্থল ঘুরে দেখা যায়, পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য তৈরি জেব্রা ক্রসিং অনেক চালকের কাছেই যেন গুরুত্বহীন। ক্রসিংয়ের ওপরই গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। পথচারী পারাপার হতে দেখেও অনেক চালক গতি কমানোর পরিবর্তে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে অপেশাদার চালকদের অনেকেই জেব্রা ক্রসিংয়ের নিয়ম ও এর আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সচেতন নন।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনা কমাতে নির্মিত স্পিডব্রেকারগুলোও রাতের আঁধারে হয়ে উঠছে ঝুঁকির কারণ। অধিকাংশ স্পিডব্রেকারে নেই পর্যাপ্ত রিফ্লেকটিভ মার্কিং বা সতর্কতামূলক সংকেত। ফলে সন্ধ্যার পর দ্রুতগতির যানবাহনের চালকদের কাছে এগুলো অনেক সময় দৃশ্যমান হয় না। হঠাৎ স্পিডব্রেকারে উঠলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর পাশাপাশি যাত্রী ও চালক উভয়েই দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আঞ্চলিক সড়কগুলোতে কিশোর ও তরুণদের হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাও উদ্বেগজনক। ‘কাছেই তো যাচ্ছি’—এমন নানা অজুহাতে অনেকেই হেলমেট ব্যবহার করছেন না। একই সঙ্গে কিছু গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের চালকের বৈধ লাইসেন্স না থাকার অভিযোগও রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উল্টো পথে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং অতিরিক্ত গতিতে যান চালানোর প্রবণতা।
দোহার লটাখোলা মোড়ে এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তা পার হতে গেলে মনে হয় গাড়ি গায়ের ওপর তুলে দেবে। কোনো নিয়ম নেই, তদারকি নেই—নিজের এলাকাতেই আমরা যেন পরবাসী।”
সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু সাময়িক জরিমানা কিংবা মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করে এ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি, চালকদের কাগজপত্র যাচাই এবং সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ।
এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের উদ্যোগে চালকদের ট্রাফিক আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া, স্পিডব্রেকারগুলোতে দৃশ্যমান রিফ্লেকটিভ রং ও সতর্কতামূলক সংকেত স্থাপন এবং পথচারী ও চালকদের মধ্যে নিয়মিত ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি। এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি শৃঙ্খলাও ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Post a Comment