ঢাকা:
|

No edit

সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা:
|

No edit

সংবাদ শিরোনাম :

ভালো গান জানলেও সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আড়ালে সিংহগ্রামের মাহিয়া

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
অ+ অ-

জুয়েল চৌধুরী, হবিগঞ্জ ॥ গানের প্রতি ভালোবাসা ও নিজের প্রতিভাকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছেন হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের তরুণ শিল্পী মারাজানা জাহান মাহিয়া। ভালো গান করলেও পর্যাপ্ত সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখনো অনেকটাই আড়ালে রয়েছেন তিনি। নানা প্রতিকূলতা, কষ্ট ও অপমান সহ্য করেও সংগীতের জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করার স্বপ্ন দেখছেন এই প্রতিভাবান শিল্পী।

মারাজানা জাহান মাহিয়ার বাড়ি লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামে। তার বাবা মো. মুরর্শিদ মিয়া ও মা মোছা. আয়েশা খাতুন। বাবা-মাকেই নিজের জীবনের চলার পথের আলো মনে করেন তিনি। তাদের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণাই প্রতিকূলতার মধ্যেও তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

নিজের শিল্পী হয়ে ওঠার যাত্রা প্রসঙ্গে মারাজানা জাহান মাহিয়া বলেন, এতদূর আসতে পারবেন—এমনটা হয়তো কখনো ভাবেননি। এমন একটি পরিবারে জন্ম নেওয়ায় তার মতো একটি মেয়ের এতদূর আসার যোগ্যতা নেই—এমন কথাও শুনতে হয়েছে তাকে। তবে এসব বাধা তাকে থামাতে পারেনি।

মাহিয়া বলেন, “অনেক কষ্ট করেছি, অনেক অপমান সহ্য করেছি। তবে সবসময় একটি লক্ষ্য সামনে রেখেছি। আমার ওপর দিয়ে অনেক ঝড়-তুফান গেছে। একটা লড়াই করতে গেলে আগে পানিতে সাঁতার কাটতে হয়। লড়াই করতে হলে সাঁতার শিখতে হবে, তারপর সাঁতার দিতে হবে।”

তিনি মনে করেন, জীবনে কোনো কিছু অর্জন করতে হলে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করার মানসিকতা থাকতে হয়। নিজের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি সংগীতের জগতে আরও ভালো কিছু করার প্রত্যয় রয়েছে তার।

মাহিয়া বলেন, “আমি মারাজানা জাহান মাহিয়া, আরও কিছু করতে চাই। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। গাছের ফুল গাছেই মানায়, হাতে মানায় না।”

অল্প বয়সেই জীবনে অনেক কিছু করার সুযোগ হয়েছে উল্লেখ করে এই শিল্পী বলেন, ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে চান। তার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয় হলো মায়ের মুখে হাসি দেখা। কারণ তাকে নিয়ে তার মা অনেক কষ্ট করেছেন।

মাহিয়া বলেন, “আমার জীবনে অল্প সময়েই অনেক কিছু করেছি। আরও কিছু করতে চাই। আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হই আমার মায়ের মুখের হাসি দেখে। আমার মা আমাকে নিয়ে অনেক কষ্ট করেছেন।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভাব-অনটনের কারণে শিল্পী হিসেবে নিজের প্রতিভা বিকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছেন না মারাজানা জাহান মাহিয়া। ভালো গান করলেও স্থানীয়ভাবে তেমন সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছেন না তিনি। প্রতিভাবান এই শিল্পীকে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীতচর্চা এবং বড় পরিসরে কাজের সুযোগ দেওয়া হলে তার প্রতিভা আরও বিকশিত হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শিল্পী মারাজানা জাহান মাহিয়ার প্রত্যাশা, তার প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন হবে এবং ভবিষ্যতে সংগীতের জগতে নিজেকে আরও ভালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। তার বিশ্বাস, সুযোগ পেলে নিজের প্রতিভা দিয়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা সম্ভব।

একটি মন্তব্য করুন