শ্রমিকের মৃত্যুর পরও ভাঙা হয়নি নকশাবহির্ভূত ভবন, নোটিশেই সীমাবদ্ধ মতলব পৌরসভা
জানা যায়, গত ১০ আগস্ট (সোমবার) মতলব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে ভবন মালিক প্রবাসী মো. লিটন বকাউলকে সাত দিনের মধ্যে ভবনের নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশ অনুযায়ী গত ১৭ আগস্ট সময়সীমা শেষ হলেও এখন পর্যন্ত ভবনটি অপসারণে পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটির মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইন চলে গেছে। এতে ভবনটিতে কাজ করা শ্রমিক ও বসবাসকারী পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে গত ৯ আগস্ট (রবিবার) সকালে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় নির্মাণকাজ করার সময় হৃদয় হোসেন (২০) নামে এক নির্মাণশ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। মর্মান্তিক ওই ঘটনার পরই ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ ও নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণে নোটিশ দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, ভবনটিতে মালিক লিটন বকাউলের পরিবারও বসবাস করে।
তবে নোটিশের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও ভবন অপসারণ না হওয়ায় পৌরসভা ও বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নও উঠেছে।
এ বিষয়ে মতলব পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ভবন মালিক মৌখিকভাবে কিছু সময় চেয়েছেন। তিনি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে কথা বলে ভবন অপসারণের বিষয়ে পৌরসভাকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে মতলব দক্ষিণ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা কিংবা ভবন ভাঙার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো লিখিত বা মৌখিক আবেদন আসেনি।
এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নোটিশের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন, একজন নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুর পরও যদি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে আবার কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে?
স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Post a Comment