কুলাউড়ায় বন্ধ হচ্ছে না ক্যাসিনো-ওয়ানটেন জুয়ার আসর, পুলিশের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের দাবি, চাতলা গ্রামের লাল মিয়া মেম্বারের ভাই আবুল হোসেনের নেতৃত্বে রাত ১টা থেকে ভোর পর্যন্ত জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাইভেটকার, নোহা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে লোকজন এসে অংশ নেন বলে অভিযোগ তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, আবুল হোসেনের সঙ্গে আব্দুল মুকিত জঙ্গী, শায়েস্তাগঞ্জের সুরুজ আলী, আওয়ালসহ আরও কয়েকজন এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে এলাকায় মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গভীর রাতে দূরদূরান্ত থেকে অপরিচিত লোকজনের যাতায়াতের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাতভর জুয়ার আসর চললেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ হচ্ছে না। বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর ফের একই স্থানে জুয়ার আসর বসছে বলে তাদের দাবি।
সম্প্রতি আমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়ানটেনের সরঞ্জামসহ শায়েস্তাগঞ্জের কাশিপুর গ্রামের ইন্তাজ আলীর ছেলে সুরুজ আলী, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাগালিয়া গ্রামের আব্দুল মুকিত জঙ্গী, চাতলা গ্রামের আবুল হোসেনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে তারা জামিনে বা আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যাচাই সাপেক্ষ।
এদিকে, গত শুক্রবার রাতে স্থানীয়দের অভিযোগের পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার সঙ্গে জড়িতরা সরে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর আবারও সেখানে জুয়ার আসর বসানো হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—একাধিকবার অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশ ও অভিযান পরিচালনার পরও কীভাবে একই এলাকায় রাতভর জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনা করে জুয়ার আসর বন্ধ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি জুয়ার আড়ালে মাদক সেবন বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে কি না, তা তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্নার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ বা ‘ম্যানেজ করে’ জুয়া পরিচালনার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তারও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Post a Comment