প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
কটিয়াদীতে মুসলিম আব্দুর রহমানের জানাজায় অশ্রুসিক্ত দাঁড়িয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা
প্রকাশঃ
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : মসজিদের ভেতরে চলছিল মুসলিম ব্যক্তির জানাজার নামাজ। বাইরে শোকাহত দৃষ্টিতে অপলকভাবে তাকিয়ে রয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী কয়েকজন। কারও চোখ অশ্রুসিক্ত, আবার কারও চেহারায় শোকের ছাপ। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও সবার হৃদয়ে ছিল ভালোবাসার প্রবল টান। অন্য ধর্মের হলেও তাঁরা এসেছিলেন শেষ বিদায় জানাতে।
মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) এমনই দৃশ্য দেখা গেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকার কলামহলা দরগাহ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত একটি জানাজায়। এটি মানবিকতার পাশাপাশি এলাকার ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
পৌর এলাকার পূর্বপাড়া মহল্লার বাসিন্দা প্রবীণ ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান (৯৫) বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার রাতে নিজ বাড়িতে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে মুসলমানদের পাশাপাশি এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের মনেও গভীর শোক ও বিষাদের ছায়া নেমে আসে।
পাকুন্দিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
মৃত আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন স্থানীয় দরগাহ জামে মসজিদের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। সামাজিক কাজের পাশাপাশি তিনি ধর্মীয় কাজেও দীর্ঘদিন অবদান রেখে গেছেন। মঙ্গলবার দুপুরের নামাজের পর হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে মসজিদের পাশের সামাজিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
দেখা গেছে, মুসলমানদের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী কয়েকজনও জানাজায় অংশ নিয়েছেন। মসজিদের ভেতরে হাজারো মানুষ জানাজায় দাঁড়িয়েছেন। এ সময় পেছনে মাঠে দাঁড়িয়ে অংশ নেন পৌর এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক ইন্দ্রজিত কুমার সাহা, সুজিত কুমার সাহা, মধুসূদন সাহা ও পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বিপ্লব কুমার সাহা বিপদ।
শিক্ষক ইন্দ্রজিত কুমার সাহা বলেন, ‘মরহুম আব্দুর রহমান সাহেব এলাকার প্রবীণ ব্যবসায়ী ছিলেন। আমার প্রয়াত পিতার সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ অন্যদের মতো আমাদেরও শোকাহত করেছে। এজন্য শেষ বিদায়ের শ্রদ্ধা জানাতে আমরা উপস্থিত হয়েছি।’
শিক্ষক সুজিত কুমার সাহা বলেন, ‘আব্দুর রহমান সাহেব খুবই বিনয়ী মানুষ ছিলেন। আমাদের পরিবারের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। তাঁর শেষ বিদায়ের সময়ে উপস্থিত হলাম। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।’
সাবেক স্থানীয় পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, ‘এলাকার প্রতিটি মৃত্যু আমাকে শোকাহত করে। আমি সবসময়ই চেষ্টা করি কেউ মারা গেলে উপস্থিত হতে। ধর্ম কারও সম্পর্ক আলাদা করে না। মরহুম খুবই সাদা মনের মানুষ ছিলেন। তাঁর মৃত্যু অন্যদের মতো আমাকেও শোকাভিভূত করেছে।

Post a Comment