ঢাকা:
|

No edit

সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা:
|

No edit

সংবাদ শিরোনাম :

কটিয়াদীতে পাটের বাম্পার ফলন, ভালো দামে হাসি কৃষকের মুখে

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
অ+ অ-

মিয়া মোহাম্মদ ছিদ্দিক, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চলতি মৌসুমে বেড়েছে পাটের আবাদ। পাশাপাশি ফলনও হয়েছে ভালো। এতে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। চাষিরা বলছেন, বর্তমানে বাজারদর ভালো থাকায় তারা পাটের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মৌসুমের শেষ দিকে পাটের দাম আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কটিয়াদীর বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। ভালো মানের পাট প্রতি মণ ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক নিম্নমানের পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে। কৃষকদের প্রত্যাশা, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পাটের দাম আরও বাড়তে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর কটিয়াদীতে ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। প্রায় সব এলাকাতেই ফলন ভালো হয়েছে। একসময় যেসব জমি পতিত পড়ে থাকত, এবার সেসব জমিতেও অনেকে পাট চাষ করেছেন। লাভজনক হওয়ায় নতুন অনেক কৃষকও পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধান চাষে নানা কারণে অতীতে লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেক কৃষক। এ কারণে এবার তুলনামূলক লাভজনক পাট চাষের দিকে ঝুঁকেছেন তারা।

সরেজমিনে পৌর এলাকার জোয়ারিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে সারি সারি পাট শুকানো হচ্ছে। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে নতুন পাটের ঘ্রাণ। মানিখালী, করগাঁও, সহশ্রাম, ধুলদিয়া ইউনিয়নের সুতি এলাকা, মসুয়া, বনগ্রাম ও লোহাজুরীসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে পাট শুকানোর ব্যস্ততা। কোথাও জমি থেকে পাট কাটছেন কৃষক, কোথাও পানিতে জাগ দেওয়া হচ্ছে। আবার কোথাও জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে।

বিভিন্ন জলাশয়ে মাচা তৈরি করে পচা পাট থেকে আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে। পরে রোদে শুকিয়ে বাড়িতে নিয়ে বান্ডিল তৈরি করছেন চাষিরা। কয়েক দিন ধরে আশপাশের এলাকার কৃষকরা বাজারে পাট নিয়ে বিক্রি করছেন। কটিয়াদী পুরোনো বাজারের ঐতিহ্যবাহী পাটের মোকামগুলোতেও নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে।

বনগ্রাম ইউনিয়নের নন্দিপুর গ্রামের কৃষক আক্কাস মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে তিনি দুই একর জমিতে পাট চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। তিনি প্রায় ৪৫ মণ পাট পেয়েছেন। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এসব পাট প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

লোহাজুরী ইউনিয়নের দশপাখি গ্রামের কৃষক আবুল হাশিম জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আরও কিছুদিন পর ৪ হাজার ৫০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

আবুল হাশিম বলেন, ‘পাট যত পুরোনো হবে, দাম তত বাড়বে। অনেক সময় ব্যবসায়ীরা ভালো পাটকেও মানহীন বলে দাম কমানোর চেষ্টা করেন। বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে আমাদের জন্য ভালো হবে।’

কটিয়াদী বাজারের পাট ব্যবসায়ী জুয়েল সাহা বলেন, ‘ভালো মানের পাট মণপ্রতি ৪ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে কেনা হচ্ছে। সবে পাট বাজারে আসতে শুরু করেছে। এখনো পুরোদমে ওঠেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বড় ব্যবসায়ীদের কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করতে পারলে ব্যবসা ভালো হবে। বেশিদিন পাট গুদামে জমে থাকলে সমস্যা হয়।’

কটিয়াদী বাজার পাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবীর সাহা বলেন, ‘বর্তমানে তোষা পাট প্রকারভেদে মণপ্রতি সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মেস্তা পাটের দামও প্রায় একই। মিল মালিকরা নগদ অর্থ পরিশোধ করলে ব্যবসায়ীদের পাট কিনতে সুবিধা হয়। গুদামে পাট জমে থাকলে সমস্যা হয়। আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক থাকলে বাজার আরও ভালো থাকবে।’

কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর কটিয়াদী উপজেলায় ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষকরাও ভালো দাম পাচ্ছেন। তবে অনেকে অপরিষ্কার ও কম পানিতে পাট জাগ দেন। এতে আঁশের মান কিছুটা কমে যায়। তাই স্বচ্ছ ও পর্যাপ্ত পানিতে পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে পাটের মান আরও উন্নত হবে।’

একটি মন্তব্য করুন