ঢাকা:
|

No edit

সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা:
|

No edit

সংবাদ শিরোনাম :

সরাইলে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
অ+ অ-

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় যুবদল নেতার ভয়ে একটি পরিবার বাড়িছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাড়িতে ফিরতে ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে পরিবারের প্রধান ব্যবসায়ী মো. কামাল পারভেজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কামাল পারভেজ অভিযোগ করে বলেন, তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে ব্যবসা করে আসছেন। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলে রিফাত পারভেজ শাওন পরিবারের অজান্তে পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইচাড়া গ্রামের কিবরু মিয়ার মেয়ে নিসা আক্তারকে বিয়ে করেন। পরে দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় চলতি বছরের ২ জুন আইনানুগভাবে নিসা আক্তারকে তালাক দেন রিফাত।

কামাল পারভেজের অভিযোগ, তালাকের পর থেকেই কিবরু মিয়া তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করেন। তাঁর দাবি, কিবরু মিয়ার যোগসাজশে গত ৪ আগস্ট পাকশিমুল ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভুইশ্বর গ্রামের বাসিন্দা জুনাইদ মিয়া লোকজন নিয়ে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় ছেলের তালাকের বিষয় উল্লেখ করে তাঁর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা বিয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে নিসা আক্তারের জন্য এবং ২০ লাখ টাকা জুনাইদ মিয়ার জন্য দাবি করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। চাঁদা না দিলে তাঁর পরিবারকে চরম মূল্য দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন কামাল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি অরুয়াইল বাজারের ব্যবসায়ীদের জানালে জুনাইদ মিয়া আরও ক্ষিপ্ত হন। এর জেরে গত ১৭ আগস্ট রাতে কিবরু মিয়াসহ কয়েকজন তাঁর অরুয়াইল বাজারের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। এ সময় আবারও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কামাল পারভেজ বলেন, হামলার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন।

তিনি জানান, বাড়িতে হামলার ঘটনায় গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জুনাইদ মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে কামাল পারভেজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা জুনাইদ মিয়া। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

জুনাইদ মিয়ার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে অরুয়াইল বাজারে ব্যবসা করে আসছেন এবং কামাল পারভেজ তাঁর পরিচিত ও সুসম্পর্ক রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, কামাল পারভেজের ছেলে রিফাত পারভেজ শাওন কিবরু মিয়ার নাবালিকা মেয়ে নিসা আক্তারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের কথা বলে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। বিষয়টি জানার পর কিবরু মিয়া কামাল পারভেজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করেন। সমাধান না হওয়ায় গত ১৪ আগস্ট কিবরু মিয়া সরাইল থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় জুনাইদ মিয়াকে সাক্ষী করা হয় বলে তিনি জানান।

জুনাইদ মিয়া বলেন, ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কামাল পারভেজ তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে কামাল পারভেজের স্ত্রী শিরিন সুলতানা, ভাই ফারুক আহমেদ ও স্ত্রীর বড় ভাই আব্দুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন।

একটি মন্তব্য করুন